এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা পেছাতে জাতিসংঘকে চিঠি দিল সরকার

সরকার যে প্রস্তুতির সময় পেয়েছিল, তা করোনা মহামারি-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আরো তিন বছর সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

শুক্রবার ( ২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইআরডি সচিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময় বাড়াতে জাতিসংঘের সিডিপিতে আমাদের মিশনের মাধ্যমেই গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা পরশু দিন চিঠিটি দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেমন উত্তর আসবে, এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে সরকার। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের সিডিপি ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার যে প্রস্তুতির সময় পেয়েছিল, তা করোনা মহামারি-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন, বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি—সব মিলিয়ে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

ফলে প্রস্তুতিমূলক সময়কাল যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলেও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমন্বয় ও নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা যায়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চ মাত্রার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মোকাবেলায় সময় প্রয়োজন।

এ অবস্থায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করতে হলে বাংলাদেশের তিন বছরের একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ এবং সম্ভাব্য সময় প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে সময় বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও